জলবায়ু ও পরিবেশ উন্নয়ন

ভৌগোলিক দিক থেকে তিনটি নদীর অববাহিকায় গড়ে ওঠা নিম্ন ব-দ্বীপ অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম প্রধান জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে পরিচিত। জলবায়ু পরিবর্তন এবং এর বিরুপ প্রভাব এদেশের উন্নয়নের ক্ষেত্রে বড় একটি চ্যালেঞ্জ।

বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাবের নির্দোষ শিকার। একথা সর্বজন স্বীকৃত যে এদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে চরম বিপন্ন। বাংলাদেশের নিম্নাঞ্চল পৃথিবীর বৃহত্তম নদীর মোহনায় গঠিত হওয়ায় প্রাকৃতিক দুর্যোগকবলিত হওয়ার প্রবণতা বেশি। অধিকন্তু, এই ভূ-খন্ড এশিয়ার বৃষ্টিবহুল এলাকা দ্বারাও পরিবেষ্টিত। এ দেশের ৬০ শতাংশ ভূমি সমুদ্রপৃষ্ঠ হতে মাত্র ৫ মিটার উপরে। HCCPR (Headley Center for Climate Prediction and Research) এর প্রাক্কলন অনুযায়ী বাংলাদেশে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ২০৮০ সালে ৪০ সেন্টিমিটার (১৫ ইঞ্চি) বৃদ্ধি পাবে (Streatfield, ২০১৮)। জার্মানভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ‘জার্মানওয়াচ’ এর সর্বশেষ (২০১৭) গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটতে পারে এমন দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৬ষ্ঠ।

বিশ্বব্যাংকের একটি সমীক্ষায় দেখানো হয়েছে যে, প্রতি ৩ থেকে ৫ বছরে বাংলাদেশের দুই তৃতীয়াংশ অঞ্চল বন্যাপ্লাবিত হয় এবং তাতে অবকাঠামো, বাসস্থান, কৃষি এবং জীবিকার ব্যাপক ক্ষতিসাধিত হয়। সমুদ্র উপকূলীয় নিম্নাঞ্চল ঝড় জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকিতেও থাকে। গড়ে প্রতি তিন বছরে একবার বর্ষা মৌসুমের শুরুতে অথবা শেষে একটি বড় ধরনের ঘূর্ণিঝড় বাংলাদেশের উপকুলীয় তটরেখায় আঘাত হানে এবং প্রবল জলোচ্ছ্বাসের সৃষ্টি করে যা মাঝে মাঝে ১০ মিটারের বেশি উচ্চতাসম্পন্ন হয়। উপকূলীয় নিম্নাঞ্চলে ভূ-গর্ভস্থ পানি ও মাটির স্তরে লবণাক্ত পানির প্রবেশ এবং জলাবদ্ধতার কারণে জীবন ও জীবিকা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন চ্যালেঞ্জ হচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বিরূপ প্রভাব- যা নারী, শিশু, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী এবং সমাজের অন্যান্য সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জীবন ও জীবিকার উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। বাউস এ লক্ষ্যে কাজ করছে ।