প্রেসিডেন্টের বার্তা

 

সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে সুদীর্ঘ ১২ বছর আমেরিকাতে কর্মরত থেকে পরবর্তীতে আইটি ফার্ম গড়ে তুলেছি। ২০০৫ সালে বাংলাদেশী আমেরিকান কম্পিউটার ফোরাম প্রতিষ্ঠা করে কমিউনিটির শিক্ষিত জনগোষ্ঠী এবং কম্পিউটার সাইন্স গ্র্যাজুয়েটদের ফ্রি প্রশিক্ষণ দিয়ে অসংখ্য লোকের কর্ম সংস্থানের ব্যবস্থা করেছি এবং পরবর্তীতে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে দেশে এসে কাজ করেছি।

২০১২ সালে আমেরিকা থেকে এসে যখন বাংলাদেশে বেশি সময় ধরে অবস্থান করি, তখন আমার কাছে অধিকতর সময়োপযোগী এবং জীবন মরণ সমস্যা বলে যেটা মনে হলো, সেটা হচ্ছে- বিষযুক্ত খাবার এবং সড়ক দূর্ঘটনা। আমার ধারণা বাংলাদেশে যত মানুষ রোগে ভোগে তার ৬০% লোক রোগে ভুগছে এই বিষযুক্ত বা কেমিক্যাল যুক্ত খাবার খেয়ে।

আমার বড় ভাই ক্যান্সারে মারা যান মাত্র ৩২ বছর বয়সে। সেই থেকে এ ধরনের গবেষণার সূত্রপাত। বাংলাদেশে ডায়াবেটিস, কিডনি, লিভার, প্যানক্রিয়াস, গ্যাসট্রাইটিস, ক্যান্সার প্রভৃতি রোগের মূল কারণই হচ্ছে এই ভেজাল খাবার। যদি আগামী বিশ (২০) বছর এ ধারা অব্যাহত থাকে তাহলে দেশের প্রতিটি পরিবারে একজন করে ক্যান্সার, কিডনি ফেইল্যুর, লিভার সিরোসিস সহ মারণাত্মক ব্যাধির রোগী পাওয়া যাবে, যার পরিণতি হচ্ছে একমাত্র মৃত্যু।

আমি নিরাপদ খাদ্য নিয়ে প্রধানতঃ দুটি কারণে কাজ শুরু করি। বিপুল সংখ্যক কর্মহীন সক্ষম যুবশক্তির জন্য কর্মের সংস্থান করা। এলক্ষ্যে যা আমার মাঝে সাহস ও শক্তি সঞ্চার করে, তা হলো দেশের  প্রায় ৬৫ শতাংশ জনগোষ্ঠি হচ্ছে যুবক-যুবতী। এদের বয়স ত্রিশ বা ত্রিশোর্ধ। এই বিপুলায়তন যুবশক্তিকে কর্মে নিয়োজিত করার লক্ষ্যে  উদ্যোক্তা তৈরী ও উদ্যোক্তাদের দ্বারা ভেজালমুক্ত খাবার (অর্গানিক) তৈরী করা এবং যারা নিরাপদ খাদ্য খেতে চায় তাদেরকে নিরাপদ খাদ্যের যোগান দেওয়া এবং এতদসংগে মাদক ও জঙ্গিবাদ এর বিরুন্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা-প্রভৃতি লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠা করি “বাংলাদেশ উদ্যোক্তা সংস্থা”।

দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য কাজের অনুপ্রেরণা এবং উৎসাহ তৈরী হয়েছে ছাত্র অবস্থায়, যখন কলকাতায় বেকার গভর্ণমেন্ট হোস্টেলের ২৪ নম্বর রুমে থেকে পড়াশুনা করেছি । যে রুমটিতে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছাত্রাবস্থায় অবস্থান করেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর স্পর্শধন্য ঐ রুমটিতে থাকার জন্য তখন ভারতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার থেকে শুরু করে ভারত সরকারের বিভিন্ন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং কলকাতা বিশ^বিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে, অনেক শ্রম ও সাধনার বদৌলতে জাতির পিতার স্মৃতিবিজড়িত রুমটিতে বাংলাদেশী একজন ছাত্র হিসেবে থাকার সৌভাগ্য অর্জন করি।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যিনি আমাদের দেশের স্থপতি, যার অবদান চির অ¤øান থাকবে শুধু বাংলাদেশের স্থপতি হিসেবেই নয় বরং সারা বিশে^র মুক্তিকামী মানুষের মুক্তির চেতনায় তিনি থাকবেন চির ভাস্বর। যুগ¯্রষ্টা, ইতিহাসের কিংবদন্তী এই মহান পুরুষের রুমে থাকাকালীন সময়ে তাঁরই আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে দেশ এবং দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করার শপথ নেই। সেবার মহান ব্রতকে সামনে রেখে কলকাতায় গ্রাজুয়েশন করার সময় “বাংলাদেশী শিক্ষার্থী পরিষদ” গড়ে তুলি। অতঃপর বেকার গভর্ণমেন্ট হোস্টেলের   চেয়ারপার্সনের দায়িত্ব নিয়ে কম্যুনিটি সার্ভিসের সূচনা করি।

গ্রাজুয়েশন শেষে উচ্চ শিক্ষার উদ্দেশ্যে আমেরিকা যাওয়ার পর বাংলাদেশী আমেরিকান কম্পিউটার ফোরাম প্রতিষ্ঠা করে এবং বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন ইউ.এস.এ-এর সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখে কম্যুনিটি সার্ভিসে আরো গভীরভাবে আত্মনিয়োগ করি। দেশে ফিরে এই ধারাকে আরো সুচারুরূপে অব্যাহত রাখি এবং দল মত জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকলের কাছে বঙ্গবন্ধুকে জাতির পিতা হিসেবে সমাদৃত করার লক্ষ্যে গড়ে তুলি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ফাউন্ডেশন। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ে তোলার লক্ষ্যে আমার ভ‚মিকা যৎসামান্য। তবুও আমার এ অকৃত্রিম ও  আত্মনিবেদিত প্রয়াস অব্যাহত থাকবে। ২০০৭ সালে আমেরিকা থেকে দেশে এসে সমস্ত আয়ের উৎস বন্ধ রেখে দীর্ঘ সময় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য নিজেকে ব্যস্ত রেখেছি, অনেক সমস্যার সম্মুখীন হয়েছি তারপরও হাল ছাড়িনি।

অনেক কষ্টের মাঝেও অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে বিগত ১০ বছরে জাতির জনকের কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশকে অর্থনৈতিকভাবে এক ঈর্ষণীয় পরিসরে নিয়ে এসেছেন। তার এই স্বপ্ন সাফল্যের অভিযাত্রায় আমি চেষ্টা করেছি নিরবে নিভৃতে আমার ক্ষুদ্র সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ করার।

একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার কেন কেমিক্যাল ফ্রি ফুড, অন্ট্রাপ্রেনার্স নিয়ে কাজ করছে? এ প্রশ্ন সকলের। বাঁচতে হলে তো বিষ খেয়ে বাঁচা যায় না- তাই এ প্রচেষ্টা।

মন্ত্রী, এমপি হয়েই দেশের মানুষের উপকার করতে হয় এ চিরাচরিত ধারণা থেকে বের হয়ে যদি আমরা প্রত্যেকেই যে যার অবস্থান থেকে দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য চেষ্টা করি, তাহলে রাষ্ট্রের বোঝা ও দায়ভার অনেকটাই সহজ হওয়া সম্ভব। অথচ সব দোষ যেন নন্দ ঘোষ, শুধুমাত্র রাষ্ট্রের উপর দায় চাপিয়ে দিয়েই আমরা নিজেদের দ্বায়িত্ব ও কর্তব্যবোধ এড়িয়ে চলি।

এ সংগঠন শুধু উদ্যোক্তাদের দিয়ে ভেজাল মুক্ত খাবার উৎপাদন করেই ক্ষান্ত হয়নি বরং নিজেদের সংস্থান থেকে ভেজালমুক্ত খাবার উৎপাদনের প্রয়াসে কাজ করছে। ইতিমধ্যে ১০০% ভেজালমুক্ত তুলসি জুস বাজারজাত করা হয়েছে। ন্যাচারাল বেবি ফুড, ন্যাচারাল এনার্জি ফুড, ন্যাচারাল সরিষা ও সানফ্লাওয়ার অয়েল এবং বিভিন্ন ধরনের নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে গবেষণা চলছে। অচিরেই উক্ত নিরাপদ খাদ্য বাজারজাত করা হবে।

এই মূহুর্তে  সংস্থার সাথে আরো কিছু মহান ব্যক্তিত্ব পরিচালনা পর্ষদে অন্তর্ভূক্ত হলে খুব দ্রুত মানুষের সেবায় ভেজালমুক্ত খাবার উৎপাদন এবং সারা বাংলাদেশ থেকে অর্গানিক খাবার সংগ্রহ করে ঢাকায় ওয়্যারহাউজ করে, ঢাকার মধ্যে অর্গানিক খাবার সরবরাহ করা সম্ভব হতো। কেননা ঢাকার মানুষ বিষমুক্ত ও নিরাপদ খাবার থেকে বঞ্চিত।

অবশেষে, মহান আল্লাহ্ রব্বুল আলামিন দেশের মানুষদের অন্ততঃ শারীরিক ভাবে সুস্থ্য রাখুক এটাই আমাদের প্রত্যাশা। আল্লাহ্ হাফেজ।

 

ইঞ্জিনিয়ার মোঃ মানিকুজ্জামান

ফাউন্ডার ও প্রেসিডেন্ট

অন্ট্রাপ্রেনার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ

(বাংলাদেশ উদ্যোক্তা সংস্থা)

 

“দেশের বেকার জনগোষ্ঠি পরিণত হোক জনসম্পদে…

নিরাপদ খাদ্য হোক দেশের প্রতিটি মানুষের মৌলিক অধিকার”

ইঞ্জিনিয়ার মোঃ মানিকুজ্জামান